বুয়েট ছাত্রের টুনটুনি স্ক্যান্ডাল

বর্তমানে সারা দেশের সোশ্যাল মিডিয়া জগতে সবচাইতে আলোচিত বিষয় নিঃসন্দেহে এই ঘটনা টি৷ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছাত্র কর্তৃক এরূপ ন্যাক্কারজনক অশ্লীল ঘটনা সম্পাদিত হয়েছে বিধায় এটি সমগ্র বুয়েটিয়ান পরিবারের জন্য নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক।তবে, এইবারের ঘটনায় বুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

এরচেয়ে ন্যাক্কারজনক ভাবে হয়রানীর ঘটনা বুয়েটের কমিউনিটি তে আগেও হয়েছে। EEE’14 ব্যাচের এক ছাত্র টিউশনে গিয়ে ছাত্রী পড়ানোর সময় টেবিলের নিচে নিজের গোপনাঙ্গ বের করে রাখতো। এই চূড়ান্ত লেভেলের বিকৃত আচরণ প্রমাণসহ ফাঁস হওয়া স্বত্ত্বেও বুয়েট কমিউনিটির বাইরে কেউ খুব একটা জানতে পারেনি। ঐ ছাত্র তখনকার বুয়েটের ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং কমিটিতে মোটামুটি উঁচু পদধারী হওয়ায় ঘটনাটা সহজেই ধামাচাপা দেয়া হয়। বুয়েটের কমিউনিটিতে এই ঘটনা ‘টুনটুনি স্ক্যান্ডাল’ নামে সুপরিচিত। কিন্তু, আজকের ছাত্ররাজনীতি মুক্ত বুয়েটে সাধারণ ছাত্ররা এভাবে ঘটনা ধামাচাপা দেয়নি। তাই, বুয়েটিয়ান পরিবার বিশ্বাস করে, বুয়েটের মতই দেশের সকল ক্যাম্পাসে এরূপ বিকৃত অশ্লীল মানসিকতা ধারণকারী ছাত্রদের পরিচয় পাবলিকলি প্রকাশ করা হবে। কথিত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে বা এরকম অজুহাতে তাদের পরিচয় লুকিয়ে রাখা হবেনা। কেননা, কয়েকজন বিকৃত মানসিকতা ধারীরা কখনোই কোনো প্রতিষ্ঠানকে রিপ্রেজেন্ট করে না। বরং, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্রদের সোচ্চার অবস্থানই সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রদান করে।একই সাথে এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, একজন ছাত্র লেখাপড়া করে যতই মেধাবী হোক না কেনো, নৈতিক চরিত্রই তার আসল সম্পদ। নৈতিকতাহীন মেধাবীরা দেশের সম্পদ নয়, বরং তারা দেশ ও সমাজের জন্য আরো বড় ক্ষতির কারণ। দুঃখজনক হলেও সত্য, সন্তানের ভালো লেখাপড়ার জন্য বর্তমান সময়ের পিতামাতারা যেভাবে চিন্তিত থাকেন, সন্তানের চরিত্র নিয়ে উনারা ততটাই উদাসীন। আমরা চাই না, আর কোনো পিতামাতা এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাক যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমানে জারিফ গ্যাং এর পিতামাতারা যাচ্ছেন। যে সন্তান তার মেধা দিয়ে পিতামাতা ও আত্মীয় স্বজনের গর্বের কারণ ছিলো, আজ সে সন্তান ই চরিত্রের কারণে তাদের কাছে লজ্জার কারণ। মানুষ মাত্রই শিক্ষাগত যোগ্যতায় কম বেশি থাকতে পারে, কিন্তু একজন চরিত্রহীন কে কি আদৌ শিক্ষিত ডাকা যায়?? তাই, পাঠ্যবই এর জ্ঞানার্জনের চাইতে উন্নত চরিত্রের শিক্ষা অর্জনই অধিকতর প্রয়োজনীয়। দেশের সকল ছাত্র ও অভিভাবক সমাজের কাছে আমরা এই মেসেজ টি পৌছিয়ে দিতে চাই।